টাঙ্গাইলের সখীপুরে কম সেচ ও পরিচর্যায় আউশ ধান আবাদে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে| উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিতভাবে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশের বীজ ও সার প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে|
সখীপুরে আউশ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ার মূল কারণ অল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়| উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে শত শত প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে| আউশ ধান সাধারণত বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে আবাদ করা যায় এবং জীবনকাল কম হওয়ায় এতে সেচ ও কীটনাশকের খরচ অনেক কম হয়|
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৫ টি ব্লকে ২৬০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে| উৎপাদনের আনুমানিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৫০ মেট্রিকটন| ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল| ৩ বছরে এ ফলন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে| বহুরিয়া গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, আমি ১ বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছি| আশাকরি ফলন ভালো হবে| উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাদিঘী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামছুজ্জামান বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি কৃষক পরামর্শ দিয়ে থাকি|
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস আশা বলেন, আউশ ধান দুই ভাবে বপণ করা যায় বোনা আউশ ও রোপা আউশ| অল্প সময়ের মধ্যে ধান কেটে, ওই জমিতে আবার রোপা আমনের চাষ করা যায় বলে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আউশ ধান চাষের আগ্রহ বাড়ছে| যেহেতু আউশ ধানের আবাদ বৃষ্টি নির্ভর, সেহেতু এ ধান উৎপাদনে সেচ খরচ সাশ্রয় হয়|
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বলেন, সখীপুরের উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে আউশ ধানের চাষ বেশ ভালো হয়| একই সাথে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এর ফলনও বেশ সন্তোষজনক|কৃষকদের মাঝে এই আগ্রহ ধরে রাখতে কৃষি অফিসের মাঠকর্মীদের পক্ষ থেকেও নিয়মিত পরামর্শ ও উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে|











