টাঙ্গাইলে ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ
টাঙ্গাইলে পাঁচ বছর বয়সী ভাতিজা কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর হত্যার দায়ে চাচা মো. নুরনবীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি নুরনবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডিত মো. নুরনবী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নব ধুলটিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। নিহত শিশু আরাফ একই এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার রাসেলের ছেলে এবং মামলার বাদী মো. নাসির উদ্দিনের নাতি।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মুক্তিপণের দাবিতে গোপালপুরের গাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে শিশু আরাফকে অপহরণ করেন তাঁর চাচা নুরনবী। অপহরণের পর মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ অক্টোবর তাঁর দাদা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে নুরনবী আটক হওয়ার পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকা থেকে আরাফের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত শেষে গোপালপুর থানার এসআই মামুন ভূঞা ২০২৫ সালের ২৭ মে আদালতে নুরনবীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে নুরনবীকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে অপহরণের দায়ে তাঁকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাথে অপরাধের আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করার অপরাধে পেনাল কোডের ২০১ ধারায় তাঁকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
পিপি আরও জানান, আদালত তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির ওপর আরোপিত এই অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ টাকা ভুক্তভোগী মৃত শিশুর পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। উক্ত আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক এই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী মহসীন সিকদার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। এছাড়া আসামি নুরনবীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাৎক্ষণিক আদালতে না পাঠিয়ে তিন দিন পর স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আদালতে পাঠায়। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।










