এক বছরেও শেষ হয়নি সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচার। সহকর্মী হারানোর ক্ষত আর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার ক্ষোভ নিয়ে এবার সময় বেঁধে দিলেন সাংবাদিক নেতারা। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গাজীপুর সিটির চান্দনা চৌরাস্তার ‘তুহিন চত্বরে’ তুহিন হত্যার এক বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সকাল ১০টায় আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ আল্টিমেটাম দেন ।
খায়রুল আলম রফিক বলেন, একটি বছর পার হয়ে গেলেও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়নি। একজন সাংবাদিক প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হওয়ার পরও তার পরিবার ও সহকর্মীদের বছরের পর বছর বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, এটি মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, “আমরা আর শুধু বিচারের আশ্বাস শুনতে চাই না। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে।”পাশাপাশি তুহিন হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খায়রুল আলম রফিক বলেন, তুহিন হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশও জড়িত। সাংবাদিক হত্যার বিচার দীর্ঘায়িত হলে অপরাধীদের কাছে ভুল বার্তা যায়।
প্রধান বক্তা আরও বলেন, সাংবাদিক হত্যা শুধু একজন সংবাদকর্মী কিংবা একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মানুষের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।একজন সাংবাদিক প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হবেন, অথচ সেই হত্যার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম ৬০ দিন সময়ের মধ্যে শেষ করা ও অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে খায়রুল আলম রফিক বলেন, তুহিন হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও বিচার আদায়ের আন্দোলন থামেনি। বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ তাদের দাবি ও আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আমরা শুধু তুহিনের জন্য দাঁড়াইনি। আমরা দাঁড়িয়েছি দেশের প্রতিটি সাংবাদিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের অধিকারের জন্য।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল নিহত তুহিনের ছয় বছরের ছেলে তৌকিরও। সাংবাদিকদের সামনে রাখা ব্যানারের সামনে এসে বসে সে। বাবাকে হারানোর এক বছর পর বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে ছোট্ট তৌকিরের উপস্থিতি সৃষ্টি করে আবেগঘন পরিবেশ।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. তাওহীদ হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, ঢাকা জেলা বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কাশেম তালুকদার এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সিকান্দার আলী বাবুলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য -ঠিক এক বছর আগে গাজীপুর সিটির চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে প্রাণ হারান সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন। বছর ঘুরে সেই ঘটনার কাছাকাছি স্থানেই শুক্রবার আবার জড়ো হন তার সহকর্মীরা।কারও চোখেমুখে শোক, কারও কণ্ঠে ক্ষোভ। কিন্তু সবার দাবি একটাই, তুহিন হত্যার বিচার আর বিলম্বিত করা যাবে না।











