এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার কথা ছিল| কিন্তু সেই আনন্দের টাকা দিয়ে বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল একদল শিক্ষার্থী| তারা চিকিৎসার জন্য তুলে দিয়েছিল ৪০ হাজার টাকা| সেই ছোট্ট উদ্যোগই এখন নাঈম সিকদারের (১৬) পরিবারের বড় আশা হয়ে উঠেছে| সহপাঠীদের পর এবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নাঈমের মায়ের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে দুই লাখ টাকা|
আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামের কলতান বিদ্যানিকেতনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়| অনুষ্ঠানে নাঈমের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে অর্থসহায়তা তুলে দেন টাঙ্গাইলু৮ (সখীপুরুবাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান|
নাঈমের মা লাইলি বেগম (৪৫) ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন| কয়েক মাস আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নাঈমের বাবা আবদুল সিকদার ধারদেনা করে কাতারে গিয়েছেন| কিন্তু সেখানে এখনো কাজ পাননি| এর মধ্যে লাইলি বেগমের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ায় পরিবারটি পড়ে যায় কঠিন সংকটে|
এই সংকটের কথা জানতে পেরে সহপাঠীরা নাঈমের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়| এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে তার মায়ের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে| ফল প্রকাশের পর পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ না করে সেই টাকা নাঈমের মায়ের চিকিৎসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার বন্ধুরা| ১৬ আগস্ট নাঈমের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেয় তারা| পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এই উদ্যোগে যুক্ত হন|
শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে| বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে| এরপর নাঈমের মায়ের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা|
নাঈম বলছিল, মায়ের অসুস্থতার পর পুরো পরিবারই দুশ্চিন্তায় ছিল| বাবাও বিদেশে গিয়ে এখনো কাজ পাননি| এমন সময়ে বন্ধুরা পাসের আনন্দের টাকা মায়ের চিকিৎসায় দিয়ে পাশে দাঁড়ায়| এবার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পাওয়ায় পরিবারের সেই দুশ্চিন্তার মধ্যে কিছুটা ¯^স্তি ফিরেছে|
সহপাঠীদের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত বিদ্যালয়ের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম| তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে তিনি আপ্লুত হয়েছেন| তাদের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়েছে| এতে নাঈমের পরিবার সহযোগিতা পাওয়ায় বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত|
নাঈমের বন্ধু ইমরান, জাহিদ ও আপন আগেই বলেছিল, পাসের আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাদের বেশি ভালো লেগেছে|
শনিবারের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম| অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি| আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর রেজা ও কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক আমিনুল ইসলাম|










