দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে, ইউএনডিপি-র সহায়তায় এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি’ প্রকল্পের আওতায়, টাঙ্গাইল পৌরসভায় সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও প্লাস্টিক চক্রাকার ব্যবহার প্রসারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নারী, যুবসমাজ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বাসিন্দারা একত্রিত হন।

“যতক্ষণ না প্লাস্টিক অপচয় হচ্ছে, ততক্ষণ তা বর্জ্য নয়”—এই বার্তার মাধ্যমে আচরণগত পরিবর্তনকে উৎসাহিত করতে প্রচারণাটি আয়োজন করা হয়। এতে এই বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয় যে, দায়িত্বশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পৌরসভার নয়, প্রত্যেক নাগরিকের একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।
প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক আজনাবী মজুমদার (নাহিদ)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনামূলক সচেতনতা অধিবেশনে প্রায় ৮০ জন কমিউনিটি অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা অনুপযুক্ত বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং পানিবাহিত রোগের বিস্তার।
এই অধিবেশনে উপস্থাপনায় ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে গৃহস্থালির বর্জ্য পৃথকীকরণের বাস্তবসম্মত কৌশল প্রদর্শন করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাগজ ও ধাতুর মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ এবং বিপজ্জনক বা অবশিষ্ট বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম করে। অংশগ্রহণকারীরা শিখেছেন কীভাবে সঠিক পৃথকীকরণ পুনর্ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে পারে, ল্যান্ডফিলের বর্জ্য কমাতে পারে এবং একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
এই উন্মুক্ত সামাজিক সংলাপে বাসিন্দারা বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করার সুযোগ পান। আলোচনা থেকে সংগৃহীত সুপারিশগুলো টাঙ্গাইল পৌরসভার মধ্যে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে, আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের পাড়া মহল্লা, অ্যাপার্টমেন্ট, ভবন, এবং ব্যবসায়িক এলাকাগুলোকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে এবং নিয়মিত বর্জ্য পৃথকীকরণ চর্চায় উৎসাহিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তাদের ধর্মোপদেশ ও সামাজিক কার্যক্রমে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ, পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বার্তা অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রাইমারি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগন তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে, সকল অংশগ্রহণকারী নিজ নিজ অবস্থান থেকে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগকে সমর্থন এবং বর্জ্য পৃথকীকরণের অনুশীলনকে উৎসাহিত করার জন্য সর্বসম্মতভাবে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
এই প্রচারাভিযানটি তার মূল বার্তা দিয়ে শেষ হয়: “আমার বর্জ্য, আমার দায়িত্ব। আজ পৃথকীকরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা করি।” আয়োজকরা বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশ জুড়ে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পৌরসভা গড়ে তোলার জন্য নাগরিক, সামাজিক নেতা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।










