টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল পৌরসভাধীন সাবালিয়া মৌজার জনাব মো: আতিকুর রহমান রুবেল দীর্ঘদিন ধরে তার নিজ জমিতে নির্মিত বাড়ি হতে অবৈধভাবে দখলচ্যুত ছিলেন। তিনি দখল পুনরুদ্ধারে অনেক ছোটাছুটি করেছেন এবং স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু নিজ জমি পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আদালতের মাধ্যমে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চিন্তা করলেও অনেক সময় ও উকিল খরচের কথা চিন্তা করে জমি উদ্ধারের আশা ছেড়ে দেন রুবেল। পরবর্তীতে জানতে পারেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে অবৈধ দখল উচ্ছেদের মামলা করে অল্প সময়ে দখলচ্যুত জমির দখল পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছেন। তাই তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ (টাঙ্গাইল দক্ষিণ) টাঙ্গাইলের আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দখল পুনরুদ্ধারে আবেদন করেন।
আইনের ৮ ধারার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ (টাঙ্গাইল দক্ষিণ), টাঙ্গাইলের বিচারকের আদেশে আতিকুর রহমান রুবেলের নামে দখল হস্তান্তরের জন্য টাঙ্গাইল সদর থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ রায়ের ভিত্তিতে ২৪ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ রুবেলের কাছে বাসাসহ জমি হস্তান্তর করেন। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রাফিউল ইসলাম। তার উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান রুবেলকে দখল হস্তান্তরনামা প্রদানপূর্বক উচ্ছেদকৃত জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে রুবেল বলেন, আদালতের মাধ্যমে জমি উদ্ধার করতে অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর সময় লাগে। দীর্ঘদিন আইনজীবীর খরচ মেটানোর জন্য অনেকটা নি:স্ব হয়ে যেতে হয় বলে আমি জমি উদ্ধারের আশায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। পরে আমার আইনজীবীর কাছে জানতে পারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে অনেক দ্রুতই আমি আমার জমি উদ্ধার করতে পারব। প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। তবে আইনজীবীর পরামর্শে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করি। কিন্তু আজ আমার হারানো জমি ও বাড়ি ফিরে পেয়ে নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি এত দ্রুত আমি আমার জমি ফিরে পাব। আমি ধন্যবাদ জানাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহবুব হাসানকে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান বলেন, কোন ব্যক্তির যদি জমিতে স্বত্ব বিদ্যমান থাকে কিন্তু তাকে আইনানুগ পদ্ধতি ছাড়া অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হয় তাহলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় মামলা করে দ্রুত জমির দখল ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে।
জেলা প্রশানক শরীফা হক বলেন, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং আদালত -২ এ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মামলার কার্যক্রম চলছে। তবে জনগণ যাতে দ্রুত প্রতিকার পায় সেজন্য মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনে আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।










