টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চর-খিদির এলাকায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে (১৪) শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং এর বিচার চেয়ে মামলা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দফায় দফায় বর্বরোচিত ও প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। জামিনে বের হয়ে আসামিরা আবারও বাদীর পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের অবহেলা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া তাণ্ডবের চিত্র তুলে ধরে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রথম হামলা: সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে চর-খিদির এলাকার জাহিদুল ইসলামের নাবালিকা মেয়ে বর্ষা আক্তার (১৪) প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে টেলিভিশন দেখে ফেরার পথে একই এলাকার বখাটে মোঃ হাসান মিয়া তাকে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর গত ৪ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে মোতালেব হোসেনের বাড়ির উঠানে একটি সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশ চলাকালীন সময়ে আসামি মজিবুর রহমানের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় হাসান মিয়া, ঈমান আলী, মোঃ জামাল, কাশেম, হালিমসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় বাবুল হোসেনের ১৬ বছরের ছেলে রাকিবের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া নারীদের শ্লীলতাহানি ও নগদ টাকা লুট করা হয়। এই ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার।
জামিনে এসে আবারও প্রাণঘাতী হামলা: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় মামলা করার পর থেকেই আসামিরা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আজ (শনিবার) বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম টাঙ্গাইল শহরের সার্কিট হাউজের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশ্ন তোলেন—
“আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমাদের প্রশ্ন—আইনের আশ্রয় নেওয়া কি আমাদের অপরাধ ছিল? আসামিরা জামিনে এসে একের পর এক হামলা করার সাহস পায় কোথা থেকে?”
ভুক্তভোগী পরিবারের ৪ দফা দাবি:
সংবাদ সম্মেলন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে ৪ দফা পেশ করা হয়:
১. হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
২. শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও পরবর্তী হামলাসহ সব বিষয়ে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা।
৩. ভুক্তভোগী পরিবারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা প্রদান করা।
৪. তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই লম্পট ও সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











