টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। এ উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতি নয়, বরং দুই উপজেলার লাখো মানুষের জন্য একটি আশার আলো।
জানা যায়, দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম গোপালপুর ও ভূঞাপুর হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অবশেষে দুই হাসপাতালই ১০১ শয্যার মর্যাদা লাভ করেছে। এর ফলে চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে, রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং বিশেষায়িত সেবা প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
গোপালপুর ও ভূঞাপুরবাসীর পক্ষ থেকে এ অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাকায়েত হোসেন বকুল ড. এম এ মুহিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী
এবং গোপালপুর-ভূঞাপুরের কৃতী সন্তান, সাবেক উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুকে। তাদের দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ফলেই এ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
স্বাস্থ্য খাতের এই উন্নয়ন শুধু হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এর সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করবে।
গোপালপুর ও ভূঞাপুরের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, ১০১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হবে। গোপালপুর ও ভূঞাপুরের হাসপাতালটি বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়া ৫০ শয্যায়িউন্নীত করে ছিলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর গোপালপুর-ভূঞাপুরের কৃতী সন্তান, সাবেক উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর প্রচেষ্ঠায় খালেদা জিয়ার পুত্র বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান ১০১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে উন্নীত করার ঘোষনায় চিকিৎসা সেবায় এক নতুন দিগন্তের সুচনা হবে। এমন আশাবাদ গোপালপুর ও ভূঞাপুরের সাধারণ মানুষের ।
বর্তমানে সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভূঞাপুর হাসপাতালটি ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
গত ৬ জুলাই উপ-সচিব কাজী শরিফউদ্দিন আহম্মেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই হাসপাতালটি ১০১ শয্যাশায়ী বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রায়ই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। চিকিৎসক ও নার্সগণ সেবা দিতে হিমশিম খায়। আশা করি ১০১ শয্যার বাস্তবায়ন হলে আর এই সমস্যা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় জনবলসহ ১০১ শয্যার আসন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আমাদের আরো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার এই অর্জন নিঃসন্দেহে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মাইলফলক। উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন, এই উদ্যোগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।











