র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের পৃথক অভিযানে একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ও একটি অপহরণ মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর এবং রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাব-১৪ চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যা, অপহরণ, লুণ্ঠন, জঙ্গিবাদ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে দুই মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার: র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এক ব্যক্তি গরুর ভুষি কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কালিহাতী উপজেলার মাজেদের পুকুরপাড়ে তার জুতা, মোবাইল ফোন ও ভুষির ব্যাগ দেখতে পান। পরে ২৬ মে কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের সরাগী উত্তরপাড়া বউলা বিল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সখীপুর উপজেলার সোলা প্রতিমা দরিয়াপুর এলাকা থেকে মামলার পলাতক আসামি মো. রিপন তরফদার (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
অপহরণ মামলার আসামি গ্রেফতার: অপর অভিযানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি অপহরণ মামলার পলাতক আসামি মো. সাব্বির মিয়া (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে সাব্বির মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৩ জুন ২০২৬ দুপুরে ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাব্বিরসহ কয়েকজন অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ভূঞাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই সাব্বির আত্মগোপনে চলে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১, সিপিসি-২, উত্তরা ক্যাম্পের সহযোগিতায় শনিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া চাঞ্চল্যকর অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।










