টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরভাতকুড়া গ্রামে একটি রাইস মিলে অগ্নিসংযোগ এবং পাশের মাছের পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তদের এ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, গত শনিবার গভীর রাতে আনুমানিক ২টার দিকে চরভাতকুড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুবকর সিদ্দিকের মালিকানাধীন রাইস মিলে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো মিল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে ততক্ষণে রাইস মিল, মিলে মজুত থাকা ধান, চাল, ভুট্টা ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুনে মিলের অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সকালে আরও একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে আসে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাইস মিলের পাশের আবাদি মাছের পুকুরে দুর্বৃত্তরা গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে। ফলে পুকুরের বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
ভুক্তভোগী আবুবকর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই আমার রাইস মিলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি। শুধু তাই নয়, আমার মাছের পুকুরেও গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এর আগে কয়েক মাস আগে আমার প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের একটি ট্রাক্টরেও আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনারও কোনো বিচার পাইনি। এবারও বিচার পাব কি না, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত।”
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তে যাওয়া ধনবাড়ী থানার এএসআই আরিফুল ইসলাম জানান, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান বলেন, “আবুবকর সিদ্দিক ইতিপূর্বেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সকালে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। কে বা কারা গভীর রাতে তার রাইস মিলে আগুন দিয়েছে এবং পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলেছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।











