দুই ঠিকাদারের ঠেলাঠেলিতে ২০ ফুট রাস্তার অসমাপ্ত কাজই এখন গলার কাঁটা হয়ে বিধঁছে। শহরের ব্যস্ততম সড়কের শান্তিকুঞ্জ মোড়ের ২০ফুট খানা খন্দকে ভরা রাস্তায় যান চলাচল এখন চরম ভোগান্তি। ব্যস্ততম এই রাস্তাধরে দেলদুয়ার, পাকুটিয়া হয়ে মানিকগঞ্জ কিংবা পাকুল্যা হয়ে ঢাকা যাওয়ার রাস্তা। এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার আদি টাঙ্গাইল, বেপারীপাড়া, বাজিতপুর, মিরের বেতকা ও গাড়াইল এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা শান্তিকুঞ্জ মোড়ের এই ২০ ফিট ভাঙ্গা রাস্তায় পেড়িয়ে যাওয়া। এছাড়া পাঁচ রাস্তার শান্তিকুঞ্জ মোড়ে সর্বক্ষন যানজট লেগেই থাকে। দীর্ঘদিন যাবত ২০ ফুট রাস্তার অসমাপ্ত কাজের কারনে যত্রতত্র গাড়ীঘোড়ার জ্যাম লেগেই থাকে। খানা খন্দকে ভরা চলতি পথে অটো রিক্সা কিংবা সিএনজির উলটে যাওয়া নিত্যদিনের ব্যাপার এখন।
দীর্ঘ দিনের চাহিদার পর ২০২০ সালে শান্তিকুঞ্জ মোড় হয়ে দেলদুয়ার রোডটি ঢালাইয়ের শক্ত রাস্তা তৈরী হয়। এর পর ২০২৪ সালে পাশেই মেইন রোড হয়ে বেবীস্ট্যান্ড গামী রাস্তাটিও ঢালাইয়ের মাধ্যমে মুজবত করে তৈরী করা হয়। শান্তিকুঞ্জ হয়ে মেইন রোডের উঠার পথে ২০ ফুট রাস্তার কাজ দুটি ঠিকাদার পক্ষ তাদের কাজ শেষ করেই “ওই ঠিকাদার করবেনি!”বলে দ্ইু ঠিকাদারের ঠেলাঠেলির পথে ২০ ফুট রাস্তার কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে যায়।
চলার পথে পাহাড় সমান উঁচু নিচু ২০ফুট রাস্তায় এই রোডে সবসময় চলাচলকারী সিএনজি সমিতির কর্মকর্তারা মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়। তবে মাটি দিয়ে সংস্কার করা ২০ ফুট অংশটি অল্পদিনেই ধসে নিচের খানা খন্দকের কঙ্কাল বেরিয়ে আসে। তাতে সমস্যা আরো বাড়ে। এই বিষয়ে সড়ক বিভাগে বার বার যোগাযোগ করেই কোন সমাধান কোন সমাধান হয়নি।

অল্প রাস্তাটি মানুষের জন্য চরম ক্ষতিকর এই ভাবনাটাই তাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই পথে সর্বক্ষন চলাচলকারী মতিন বলেন, এই পথে এই অংশটিই আমাদের চরম বিরক্তির কারন। এখানে যানবাহনে চলতে গেলে বড় ধরনে ঝাঁকি খেতেই হয়। অটোরিক্সা কিংবা সিএনজির ঝাঁকিতে একদিকে কাত হয়ে গেলে যাত্রীরা রাস্তায় পড়ে হাত পা কেটে যায় এবং কি মারান্তক ব্যাথা পাওয়ার কারনে অনেকের হাতও ভেঙে গেছে। এইটুকু অংশের মেরামত জরুরী।
মোড়ের অটো রিক্সা ওয়ালা শরিফুল, শামীম ও দিপক বলেন, আমরা সারাক্ষণ এখানে থাকি। সবসময়ই আমাদের এই পথে চলাচল করা খুবই কষ্ট, আমার নিজের অটো রিক্সাই একদিন কাত পড়ে যায়। এছাড়া রাস্তার পাশে ঢাকনাবিহীন গভীর ড্রেনতো আছেই। সেখানেই পড়ে যাওয়া ভয় আছে।
শান্তিকুজ্ঞ মোড়ের দোকানদার শফিক বলেন,২০ ফুট রাস্তাটি মেরামত হওয়া খুবই দরকার। আমার চোখের সামনে প্রায় দেখি, অটোরিক্সাগুলো উলটে গিয়ে যাত্রীরা পড়ে গিয়ে ব্যথা পাচ্ছে। অটোরিক্সা চাকা একদিকে কাত হয়ে থেমে গেছে। থেমে মাত্রই জ্যাম লেগে যায়। বড় বাসগাড়ি কিংবা ট্রাক এই পথে চললে জ্যামের বিকল্প নাই। আর রাস্তার ধুলো কারনে আমার দোকান ধুলোমাটিতে গড়াগড়ি খায়। আমি খুব করে আশা করি এই রাস্তা টুকু দ্রুত মেরামত করা হউক।
সিনজি শ্রমিক ইউনিয়নের মোঃ হিটলু, শাহিন শাহ ও এরশাদ বলেন, ২০ ফিট রাস্তাটি আমাদের যানবাহনের জন্য চরম হুমকি। যাত্রা পথে উচুঁ নিচু ভাঙ্গা রাস্তায় প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটছে। এটা দ্রুত মেরামত দরকার’।
এ বিষয়ে সড়ক বিভাগে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, শান্তিকুঞ্জ মোড়ের ২০ ফিট রাস্তাটি মেরামতের জন্য টেন্ডার খোলা হয়েছে। অচিরেই ২০ফিট রাস্তাটি মেরামত করা হবে’।











