১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলে আসছেন। সকাল ১০টায় কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম থেকে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও আয়োজন পরিদর্শন করলেন ৩ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী।

শুরুতে সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে আসেন খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে বলেন, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে প্রথম বারের মতো কৃষক কার্ড চালু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কৃষি মন্ত্রী আরো বলেন, টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি পয়েন্টে প্রি-পাইলটিং শুরু হবে। পাইলটিং শেষে আগামী চার বছরের মধ্যে সারাদেশে এ কার্ড বিতরণ শেষ হবে। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষক উল্লেখ কে মন্ত্রী বলেন, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশে ভাগ্য পরিবর্তন হবে। কৃষক যেন প্রতিটি ক্ষেত্রেই পণ্যেও নায্য মূল্য ও নায্য অধিকার পায়। এ কারণেই কৃষক চালু করা।
কৃষি মন্ত্রীর সঙ্গী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ দেওয়া, নায্যমূল্যে কৃষিসামগ্রী পৌছে দেওয়া। কৃষকদের কৃষি সামগ্রীযাতে কৃষকরা সঠিক সময়ে কৃষিখাত ব্যবহার করতে পারে। কৃষির উন্নয়নই বাংলাদেশের উন্নয়ন।
তিনি ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশের জাতীয় খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ২ মে নতুনকুড়ি স্পোর্টস সিলেট থেকে একযোগে সারা বাংলাদেশের জেলা শহরে প্রত্যেকটি স্টেডিয়ামে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী বাচ্চাদের নতুন কুড়ি স্পোর্টস। আমাদের সন্তানরা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা উঠে জাতির জন্য, সমাজের জন্য গড়ে উঠতে পারে। নতুন কুড়ি স্পোর্টস কার্যক্রম বাংলাদেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি আপনাদের এই টাঙ্গাইল থেকে শুরু কওে সারা বাংলাদেশে মাঠ সংগ্রহ নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। আশাকরি টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু কওে জিমনেসিয়াম যেখানে যেখানে সমস্যা রয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করবো। পর্যায়ক্রমে আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকদের সহযোগিতায় আমরা একটি ক্রীড়াবান্ধব ও ক্রীড়ামোদী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪র্থ শ্রেনী থেকেই খেলাধূলা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মৌখিক আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কাজগুলি একটি একটি পরিকল্পনামাফিক শেষ করবো।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৮টি জেলায় জনশক্তি কর্মসংস্থানের কার্যক্রম নিয়ে বলেন, যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন হয়েছে প্রায় স্বল্প সময় দুইমাস। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি এখানে কিছু কর্মকর্তাদের গাফলতি রয়েছে। সেটা আমি নিজে তদারকির মাধ্যমে সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। কারো যদি গাফলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
বেলা ২টায় সময় পরিদর্শনে আসেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর বলেন, কক্সবাজারে এয়ারপোর্টে ওয়াইফাই দিয়েছি। আমরা চেক করে দেখেছি। মাশাআল্লাহ ভালো চলছে। তারপরে আমরা কক্সবাজার রেলস্টেশনে গেলাম। সেখানে ওয়াইফাই চেক করলাম। খুবই সুন্দরভাবে চলছে। কক্সাবাজার একটা ট্যুরিষ্ট এলাকা। গুরুত্বপূর্ন স্থান। ওখানে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার বোট মালিক আছে। এরা বিভিন্ন ভাবে ১০ কিলোমিটার ২০ কিলোমিটার, বিওন টুয়ান্টি কিলোমিটার আছে। ওনারা প্রত্যেক বছর ওখানে বৃষ্টি বাদলে সবসময় দূর্ঘটনা দেখি। আমরা ওখানে বলে এসেছি আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করবো। যাতে আবহাওয়া খারাপ কিংবা ডাকাতি হলে দ্রুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এ কারনে কক্সাবাজাওে ৫ থেকে সাড়ে ৫ জেলে ভাইয়েরা আছে। তাদেরকে সিকিউরিটি দেওয়ার কারনে এই সরকার প্রতি তারা সনষ্ট থাকবে। কক্সবাজারে একটা সিকিউরিটি এবং পরিস্কার পরিছন্নতার ব্যাপার আছে। এখানে দেশীদের সাথে বিদেশী পর্যটকরা আসেন। বিদেশীরাও বিনিয়োগ করেন। ভালো ভালো হোটেল তৈরী করেন। এ জন্য আমরা কাজ করছি। বিএনপি সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা অনুযায়ী আমরা কক্সবাজার যাচ্ছি। এই শহরটাকে উন্নয়নে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি
এ সময় সঙ্গী টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এডভোকটে আহমেদ আযম খান বলেন, আগামীকাল কৃষক কার্ড বিতরন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলে আসছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখান থেকে কৃষক কার্ড বিতরন উদ্বোধন করবেন। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইস্তাহারে ছিল এবং নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। অন্যান্য ওয়াদাগুলোও একের পর এক পূরন করছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন। সেই প্রস্তুতি দেখতেই আমরা এখানে এসেছি। আমরা সারাদিনই প্রস্তুতই নিচ্ছি। আজকেও আমরা টাঙ্গাইলে অবস্থান করবো এবং আগামীকালকে খুবই চমৎকার ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড বিতরন উদ্বোধন করবেন। এরপর পৌরউদ্যানে কৃষিমেলা উম্মোচন করে ঢাকায় যাবেন। আমরা টাঙ্গাইল বাসী কৃষক কার্ড বিতরন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। টাঙ্গাইলবাসী আমরা আনন্দিত উজ্জীবিত এবং টাঙ্গাইল বাসীর জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়।
টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় এটি জেলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।
সারাদিনে ৩ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূয়াপুর ও গোপালপুর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম তালুকদার, জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ওবায়দুল হক নাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।











