বুধবার (১০ জুন) দ্যা কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে, United Nations Development Programme (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় এবং Young Power in Social Action (ইপসা)-এর আয়োজনে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজ-এ প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রজেক্টের আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক একটি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কলেজের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো (Reduce), পুনঃব্যবহার (Reuse) এবং পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (Recycling)-এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে অভ্যাসগত পরিবর্তন আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। এ দূষণের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সচেতন করা হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আলোচনা করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারী ফেরিওয়ালা, ভাঙারিওয়ালা এবং বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহকারী ভ্যানচালকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানানো হয়। এর ফলে ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসায়ীদের কাছে সহজে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্জ্য উৎসে পৃথকীকরণ এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাতযোগ্য উপকরণ আলাদা করে সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে শিক্ষার্থীদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করবে, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সংরক্ষণে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।










