টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাবেক স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তৈরি করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাদামপুর বাজার এলাকার একটি পোল্ট্রি খামারের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম শিকদার।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শালিকা উত্তরপাড়া গ্রামের ওই নারীর সঙ্গে একই উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমিনের ছেলে রাসেল রানার ২০২১ সালের ১৫ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২৪ সালের ১ মে ওই নারী রাসেলকে তালাক দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি আজহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে রাসেল রানা ওই নারীর ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করেন। পরে এসব ছবি দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে রাসেল কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। ওই নারী ও তাঁর বর্তমান স্বামী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাসেল তৈরি করা অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ১৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করেন। আদালত মধুপুর থানাকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে মধুপুর থানায় মামলা নেওয়া হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম শিকদার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাসেল রানার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মধুপুর থানার এসআই মো. সেলিম শিকদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মৌলভীবাজার সদর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।










