রিমল তালুকদার: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নবজাতককে ভুলবশত র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রয়োগের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জলাতঙ্কের টিকা (র্যাবিস ভ্যাকসিন) প্রদান বন্ধের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য সহকারী নুরুল ইসলাম নুরু হাসপাতাল থেকে আর র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে রোগীদের টাঙ্গাইল গিয়ে টিকা নিতে হবে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এর আগে বুধবার (১৩ মে) ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী এক শিশুকে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে ভুল করে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সহকারী নুরুল ইসলাম নুরুর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও সাধারণ রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তার এমন ঘোষণাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, “র্যাবিস ভ্যাকসিন বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উপজেলা পর্যায়ে র্যাবিস ভ্যাকসিন সেবা বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বিশেষ করে কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে টিকা নেওয়া প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে টাঙ্গাইল গিয়ে চিকিৎসা নিতে হলে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে।
এদিকে ভুল ভ্যাকসিন প্রয়োগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।











