আর মাত্র ২/৩ দিন পরই ঈদ। আর এই ঈদকে সামনে রেখে অবৈধ ভারতীয় মদ ব্যবসায়ীরা নতুন করে খোলস মেলতে শুরু করেছে। তাদের আনাগোনা বেড়ছে শহরের বিভিন্ন স্থানে। জেলার অন্যান্য উপজেলার পুরোনো স্পট পরিচালনাকারীরাও তাদের কর্মকান্ড বাড়িয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস একাংশের দুর্নীতি, উদাসীনতা-দায়িত্বহীনতায় জেলাব্যাপী ভারতীয় মদ ও অন্যান্য মাদকের বিস্তার বেড়েছে। আর বর্তমান সময়ে জেলা পুলিশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা দেয়া। এই সুযোগটাই গ্রহণ করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলে ভারতীয় মদের রয়েছে অন্তত ২৫-৩০টি সক্রিয় স্পট। তার মধ্যে টাঙ্গাইল পৌর শহরের আদালত পাড়া, হাউজিং এলাকা; মির্জাপুরের কলেজ রোড, গোড়াই, হাটুভাঙ্গা; হামিদপুর ব্যাংক কলোনী এলাকা, দেলদুয়ারের পাথরাইল; মধুপুরের ভাইঘাট, জলছত্র এলাকা উল্লেখযোগ্য।
বিশ^স্ত একটি সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ বিক্রি করে থাকে। কিভাবে ভারতীয় মদ টাঙ্গাইলে প্রবেশ করে জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, টাঙ্গাইল থেকে সিলেট যাতায়াত করা যাত্রীবাহী বাসে করে অধিকাংশ চালান টাঙ্গাইলে ঢোকে। এছাড়াও বিভিন্ন ভিআইপি গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক এমনকি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীর মিনি কাভার্ড ভ্যানেও আসছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি আরো জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল অফিসের অসাধু কয়েকজন কর্মকর্তা সারা জেলায় বিদেশী মদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। অপরদিকে পুলিশের বিশেষ একটি সূত্র জানায়, পুলিশ মদ উদ্ধারের চাইতে ইয়াবা, হেরোইন বা গাঁজা উদ্ধারে আগ্রহী বেশী। ভারতীয় মদ নিয়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সেই সময় টাঙ্গাইলে ভারতীয় মদের সহজলভ্যতা কমে যায়। তবে ঈদকে সামনে রেখে চক্রগুলো আবার সক্রিয় হয়েছে বলে জানা যায়।
একটি বিশেষ অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের আদালত পাড়ায় স্যানেটারি সরঞ্জাম বিক্রির আড়ালে একজন ব্যবসায়ী নিয়মিত ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ বিক্রি করে চলেছেন। সেই মদের সাপ্লাই চেইন মধুপুরের তারই এক নিকট আত্মীয়। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মধুপুরের ওই ব্যক্তি কালিহাতীতেও ভারতীয় মদ সরবরাহ করেন।
অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রয়ণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাদের কাজের স্বচ্ছতা নিয়েও জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এবিষয়ে জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবির বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম বলেন, মাদক নিয়ে কাজ, আমাদের রুটিন কাজ। মাদক ধরতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। ঈদ উপলক্ষে আমরা নতুন করে কাজ শুরু করব বিষয়টা এমন নয়। মাদক নিয়ে আমাদের সারাবছরই কাজ হয়, প্রতিদিনই কাজ হয়। এমনকি এই মুহূর্তেও কাজ হচ্ছে। যেহেতু ঈদের সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন বাড়িতে আসে, তাই এই সময়টাতে যেন মাদকের প্রকোপ না বাড়ে, সেদিকে আমরা আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে প্রশাসনের নিরবতা, দুর্বলতা ও দুর্নীতির সুযোগে দেশজুড়েই গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ কালোবাজার। যা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই বিপন্ন করছে না, বরং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকেও করছে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।











