ক্রীড়া প্রতিবেদক: বালির বাঁধ ভেঙ্গে সমুদ্রের ঢেউ যখন উপচে পড়ে, তখন বালির বাঁধটি হারিয়ে যায়| ঠিক তেমনি টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া রক্ষা করতে পারেনি| ফুটবলের ভালোবাসায় ৩৫ হাজার দর্শকের ঢল সরাসরি মাঠের পাশে| গ্রাম্য অঞ্চলে যেমন কর্ণার ফ্লাগের কাছে দর্শক বসে খেলা দেখে, এখানে তার থেকে ব্যতিক্রম| মাঠের চর্তুপাশে দর্শকের ঠাসা একটি স্টেডিয়াম| সেই দশর্কের জোয়ারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অধিনায়ক সুমন রেজার একমাত্র গোলে গোপালপুর উপজেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে|
১ আগষ্ট (শনিবার) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলায় প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল| তিল ধারনের জায়গা ছিল না, কিছু দর্শক খেলা দেখতে না পেয়ে মাঠে শুধু হাঁটছে, দর্শকের ভীড়ের কোন ফাঁকে যদি একটু খেলা দেখা যায়|
খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দর্শকের উপস্থিতিতে খুবই খুশী হয়েছেন| তিনি স্টেডিয়ামের দক্ষিণের গ্যালারি সংস্কারের পাশাপাশি নিকটের পুকুরটি সুইমিং পুল তৈরী করার ঘোষণা দিয়েছেন| এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়ামে তৈরীর পাশাপাশি টাঙ্গাইলে জিমনেসিয়াম খেলাধূলার জন্য মুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন| জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে এ সময় পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, গোপালপুর উপজেলার এমপি আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনে এমপি মোঃ রবিউল আওয়াল, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ|
মাঠের লাইন ঘেঁষে দর্শক বসে খেলা দেখলেও মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন ফাইনাল খেলাই হয়েছে| দুটি দলই শুরুতে একটু অগোছালো খেললেও ধীরে ধীরে তাদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরে আসে| দুটি দলই নিজ দলের রক্ষণ সামলে কাউন্টার এ্যাটাকে গোল করার চেষ্টা করেছেন| যে কারণে প্রথমার্থে গোল করার মতো কোন আক্রমনই হয়নি| দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সুমন রেজা ও সৌরভ দেওয়ান গোছানো ফুটবল খেলে গোল করার চেষ্টা করতে থাকে| খেলার ৫৮ মিনিটের সময় গোপালপুরের ডিবক্সের বাইরে থেকে সুমন রেজা গোলবারমুখী শট একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে গোপালপুরের জালে জড়ায় (১-০) | খেলায় পিছিয়ে পড়ে গোপালপুরের রবিউল, মামুন, সিবি কয়েকবার গোল পরিশোধের চেষ্টা করেন| বিশেষ করে প্রায় ৩২ গজ দূর থেকে সদরের গোলবারমূখী স্যামুয়েলের দূরন্ত শট টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক মজনু ফিস্ট করে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন| টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা সদরের সুমন রেজা, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় গোপালপুরের মারুফ|
খেলায় ধারাভাষ্য প্রদান করেন আব্দুল আলিম ও অনীক রহমান বুলবুল| টাঙ্গাইল সদর উপজেলাঃ মজনু(গোলরক্ষক), বাম্বা (নাইজেরিয়া), মেহেদী হাসান মিঠু(আবাহনী),মুন্না, রেজাউল,অনিক, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম (মোহামেডান), শেখ মোরসালিন (আবাহনী) সৌরভ দেওয়ান, সুমন রেজা(অধিনায়ক), সুলেমান কান্তে (নাইজেরিয়ান) গোপালপুর উপজেলাঃ সুমন, তপু, হৃদয়, ইউসুফ, স্যামুয়েল (নাইজেরিয়া), সিবি (নাইজেরিয়া), রবিউল, ফিরোজ, মামুন, মিশু ও মারুফ | রেফারীঃ সায়মন।










