আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন ইশতেহার প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে দলটি। পাশাপাশি চলছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার তথ্য হালনাগাদ এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা-উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নয়; এবার যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতা যাচাই করেই ধানের শীষের প্রার্থী বাছাই করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি এনেছে বিএনপি। সারাদেশে কাউন্সিল, কমিটি পুনর্গঠন এবং প্রার্থীতার জন্য জরিপ পরিচালনা করছে হাইকম্যান্ড।
এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন সমাবেশে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রচারণা শুরু করেছেন। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তার স্লোগান “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক” নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জেলা সম্মেলন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সমান্তরালভাবে চলছে। শিগগিরই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শুধু আন্দোলনে সম্পৃক্ততা নয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মেধা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতা প্রার্থিতা নির্ধারণের মূল মানদণ্ড হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচ্য বিষয়গুলো ইশতেহারে প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার ও সেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বড় দলে প্রতিযোগিতা থাকবেই। জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা ও দলের স্বার্থ বিবেচনা করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৯ দফা অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। এবারও গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা সংস্কার এবং ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ মিলিয়ে নতুন ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে দলটি।