২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি) নতুন পাঠ্যবই ছাপাতে ভিন্ন পথে হাঁটছে সরকার। এবার দেশীয় প্রেস মালিকদের এককভাবে দায়িত্ব না দিয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও বাংলাদেশের বই ছাপানোর কাজে অংশ নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিকের জন্য প্রস্তাবিত ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ৮০২ কপি বই ছাপাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৩ কোটি টাকার বেশি। তবে এই অর্থ যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যায়, তাহলে দেশের মুদ্রণ শিল্প, কাগজ শিল্প ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলো বড় ধাক্কা খাবে।
দেশি শিল্পের জন্য হুমকি প্রেস মালিক ও কাগজশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান হলে বেশিরভাগ কাজ বিদেশি ছাপাখানায় চলে যাবে। এতে দেশে কয়েক লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবে, অনেক ছাপাখানা দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির এক নেতা জানান, আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট-ট্যাক্স সুবিধা পায়, যা দেশি ছাপাখানাগুলো পায় না। ফলে বিদেশিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবে না।
সরকারের পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে মাধ্যমিক বইয়ের কেনাকাটার প্রস্তাব আপাতত আটকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দেশীয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক দরপত্র ঠেকাতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করছে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা বলছেন, “দেশে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকার পরও বিদেশিদের হাতে বই ছাপানোর কাজ দেওয়া হলে এ শিল্পে ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে।” সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু বিদেশে যাবে কয়েকশ’ কোটি টাকা নয়, বরং দেশের কাগজশিল্প, প্রেস মালিক ও হাজারো শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেশি শিল্প রক্ষায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পাঠ্যবই ছাপানোর দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।