টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ এডভোকেট মমতাজ করিম এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। আইনজীবী হিসেবে পেশাগত দক্ষতা, সংগঠক হিসেবে তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক কর্মী হিসেবে মানবিক উদ্যোগ সব মিলিয়ে তিনি ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলজুড়ে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথ, আদালত এবং সমাজসেবার মাঠে সক্রিয় থাকা এই নেত্রীকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।
১৯৭৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণকারী এডভোকেট মমতাজ করিম টাঙ্গাইল শহরের সিএন্ডবি রোড, বটতলা, আকুর টাকুর পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর পিতা মরহুম শামসুল হক প্রামানিক এবং মাতা মরহুম সালেহা বেগম। স্বামী মরহুম ডা. আব্দুল করিম ছিলেন বিএনপির একজন সমর্থক। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের চর্চা শুরু হয় তাঁর জীবনে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বড় ভাই মরহুম মতিয়ার রহমান টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছোট ভাই নজরুল ইসলাম কাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শ্বশুর মরহুম হাজী মোসলেম উদ্দিনও বিএনপির সমর্থক ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক আদর্শ, সংগ্রাম ও ত্যাগের চর্চা তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ।
শিক্ষাজীবনে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এমএ, এলএলবি এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি বরাবরই সোচ্চার। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা প্রধান হিসেবে “নিপীড়িত নারী ও শিশু আইনী এবং স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা সেল”-এর দায়িত্ব পালন করছেন (২০২৪ থেকে বর্তমান)। যেখানে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছেন। রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি ১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে। এরপর থেকে তিনি ধাপে ধাপে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। অতীতে তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সদস্য (২০২২-২০২৩), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল টাঙ্গাইল জেলা শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (২০১৭-২০২১), সিনিয়র সহ-সভাপতি (২০১৪-২০১৭), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি (২০১০-২০১৩) সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি দায়িত্বে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা নেতৃত্বগুণ এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে একজন গ্রহণযোগ্য নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০০৭ সালের ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন তখন তাঁর মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও মহিলা দলের পক্ষে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে ছিলেন মমতাজ করিম। ২০১৪ সাল থেকে তথাকথিত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতিটি আন্দোলনে তিনি মিছিলের সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালিয়েছেন। ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্র ও কৃষিমন্ত্রী এবং ঢাকার সাবেক মেয়র মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অগ্রভাগে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। একইভাবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু-র নেতৃত্বে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে সাংগঠনিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি পরিণত ও বাস্তববাদী রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপ দিয়েছে। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি সরকারি শাহরিয়ার হাসান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের টানা ছয়বার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১৭-২০২৪)। যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা-টাঙ্গাইল সুপিরিয়রের সদস্য, টাঙ্গাইল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, জেলা শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য এবং হিউম্যান রাইটস টাঙ্গাইল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক (২০১০-২০১৩)। পাশাপাশি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সার্টিফাইড ফ্যালো (১০ম ব্যাচ) হিসেবে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁর মানবিক উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।
২০২০ সালের মার্চে লকডাউন শুরু হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী প্রদান, শীতার্তদের কম্বল বিতরণ, জাকাতের কাপড় বিতরণ এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নিয়মিত পালন করেছেন। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও একজন মানবিক, দায়িত্বশীল এবং জনবান্ধব নেত্রী হিসেবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে এডভোকেট মমতাজ করিমকে ঘিরে টাঙ্গাইলে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আইনজ্ঞ হিসেবে দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে একজন যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর সমর্থকরা বলছেন সংসদে গেলে তিনি নারী অধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক উন্নয়ন ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখবেন। দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে ত্যাগ সংগ্রাম ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই নেত্রীর রাজনৈতিক পথচলা এখন নতুন মোড়ে। সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন ও নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে তিনি টাঙ্গাইলসহ দেশের নারীদের ক্ষমতায়ন আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা সংগ্রামে পরিপক্ব এবং সমাজসেবায় নিবেদিত এডভোকেট মমতাজ করিমকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।











