টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনবল নিয়োগে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা আক্তারের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন থেকে ৭৫৪ জন আনসার ভিডিপি সদস্য নিযুক্ত করা হয়। নিয়ম অনুসারে মৌলিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সনদধারীদের নিযুক্ত করার কথা। কিন্তু নিয়ম ভেঙ্গে বাড়তি সুবিধা নিয়ে অপ্রশিক্ষিত সদস্য নিযুক্ত করেছেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা। এতে অনেক প্রশিক্ষিত সনদধারী বঞ্চিত হয়েছেন। জানা গেছে উপজেলায় মৌলিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সনদধারী আনসার ভিডিপি সদস্য রয়েছে ১৩০০ জন।
এদের মধ্যে থেকেই সদস্য নির্বাচিত করার কথা যা উপজেলার ভাতাপ্রাপ্ত দলনেতাদের মাধ্যমে হয়ে থাকে। উপজেলা কর্মকর্তা শামিমা দল নেতাদের নির্দেশ দেন প্রতি সদস্যের বিপরীতে ১ হাজার টাকা করে তুলে তাকে দিতে। এবং সেই সঙ্গে ডাটা এন্ট্রি খরচ বাবদ আরও ২০০ টাকা করে নেয়ারও আদেশ দেন। দলনেতারা তার আদেশ মোতাবেক নিযুক্ত সদস্যদের নিকট থেকে টাকা তুলে কর্মকর্তা শামিমাকে দেন।
কামারনওগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন আনসার ভিডিপি সদস্য সদর ইউনিয়নের টেরিয়াঘোনা গ্রামের লোহান আহমেদ। তিনি বলেন, আমার দলে ১৩ জন সদস্য আমাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন শামিমা ম্যাডাম। কম্পিউটার খরচের জন্য আরও ২০০ টাকা করে দিতে বলেছেন।
মাদারকোল গ্রামের সদস্য সেন্টু মিয়া বলেন, নিয়োগ পেতে আমার নিকট থেকে ২ হাজার টাকা নিয়েছে উপজেলা কর্মকর্তা। আরও টাকা চেয়েছে। ২ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে আমি ৮ হাজার ৯২২ টাকা ভাতা পেয়েছি।
লাউহাটী ইউনিয়ন দলনেত্রী সিউলি আক্তার বলেন, আমি সনদপ্রাপ্ত ৮৮ জন সদস্যের নাম দিয়েছিলাম। টাকা না দেয়ায় সেখান থেকে ২৬ জনকে বাদ দিয়ে ৬২ জনকে নিযুক্ত করেছিলেন শামিমা ম্যাডাম। নিযুক্ত ওই ৬২ জনের জন্য প্রতি জনের ১ হাজার টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ডাটা এন্ট্রি ফি বাবদ আরও ২০০ টাকা করে দিতে বলেছিলেন। আমি তার নির্দেশ মানিনি। আমি ম্যাডামকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি সদস্যদের নিকট থেকে টাকা তুলে আপনাকে দিতে পারবো না। এতে আমার যা হয় হবে। নির্বাচন শেষ হয়েছে এখন দাবীকৃত ওই টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। টাকা না দিলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকী দিচ্ছে।
দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের সহকারী কমান্ডার সুজন বলেন, আমি ৩৯ জন সদস্য দিয়েছি এর জন্য ৩৯ হাজার টাকা ম্যাডামকে দিতে হয়েছে। আরও ৪ হাজার টাকা দিতে বলেছে। না দিলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের হুমকি দিয়েছেন।
কুইচতারা গ্রামের সদস্য মোনায়েম বলেন, আমি আটিয়া শাহানসাহী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছি। নিয়োগ পেতে আমাকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
পাথরাইল ইউনিয়নের দলনেতা নুরুল আমিন বলেন, আমার ৩৭ জন সদস্যের বিপরীতে ১ হাজার টাকা করে এবং কম্পিউটার খরচ বাবদ আরও ২০০ টাকা করে চেয়েছেন। আমি দির্ঘদিন যাবত দল নেতা হিসেবে আছি। আমি জানি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও টাকা খরচ হয় না। সেজন্য আমি সদস্যদের নিকট থেকে টাকা তুলে ম্যাডামকে দেই নি। এতে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চাকুরীচ্যুত করার হুমকী দিয়েছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা বলেন, প্রকৃত মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সনদধারীদের মধ্যে থেকেই সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। এতে কোনও অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়নি। টাকা নেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা আদৌ সত্য নয়। মাঠ পর্যায়ে টাকা নেয়ার গুঞ্জন উঠেছে বিষয়টি আমি শুনেছি তবে আমি এ অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নই।
জেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই নির্বাচনে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। নিয়োগে কোনো সদস্যের নিকট থেকে টাকা নেয়ার সুযোগ নাই। তবে কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেলে এবং যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন সেক্ষেত্রে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











