টাঙ্গাইলে বাড়তে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ১৩ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও হামের উপসর্গ নিয়ে ইয়ামিন নামের আট মাসের এক শিশু মারা গেছে।
এদিকে রোগীদের চাপ সামাল দিতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা হাসপাতালেও হামের রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মৃত ইয়ামিন সদর উপজেলার আউলটিয়া গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। সকাল ১০ টায় নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টাঙ্গাইলে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ১৬ জন হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৩ জন। এদের বয়স আড়াই মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত।
সিরাজগঞ্জের চোহালি গ্রামের মো. আশিক মিয়া বলেন, আমার ছেলেটি প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বর, কাশি। শরীরে ছোট ছোট লাল গোটাও রয়েছে। তিন দিন নাগরপুর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। পরে তিন দিন যাবত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার ছেলেটি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ।
বাসাইলের কাশিল গ্রামের মনির খান বলেন, রোজার মাঝামাঝি সময়ে আমার ছেলেটি জ¦র ও কাশি ছিল। পরে নিউমোনিয়া হয়ে যায়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করে। সেখানে ভর্তি না করার পুনরায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করছি। চিকিৎসা চলমান রয়েছে। তবে, তেমন কোন উন্নত হচ্ছে না।
রোগীর স্বজন আকাশ মিয়া বলেন, টাঙ্গাইলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকলেও তেমন কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। হামসহ সব রোগের চিকিৎসা তেমন হয় না। রোগীর একটু অবনতি হলে ঢাকায় রেফার করে। তাহলে আমরা এতো বড় হাসপাতাল দিয়ে কি করব। হামের পরীক্ষার জন্যও ঢাকা পাঠাতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ৭ দিনের মতো সময় লাগছে। আমাদের চিকিৎসা সেবাই কে নিশ্চিত করবে, আর ভোগান্তি কে লাঘব করবে?
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার হামের জন্য নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ভোরে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশু মারা গেছে। চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩ শিশু। এছাড়াও হামের চিকিৎসা দিতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।











