সাইফুর রহমান ফারুক: টাঙ্গাইলে গ্রামীন কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলার নামে মাস ব্যাপী নামে মাত্র ৩০ হাজার টাকা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

এদিকে গ্রামীন কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হলেও মেলায় গ্রামীন কুটির শিল্পের কোন পণ্য দেখা যায়নি। রোববার সরেজমিন মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ৮৭টি স্টল, ১১টি বিভিন্ন রাইড এবং চারটি প্যাভেলিয়ান রয়েছে। এক মাস ব্যাপী এই মেলা গত ১৬ মে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সংলগ্ন কালেক্টরেট মাঠে শুরু হয়েছে।
জানা যায়, মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আজাদ হোসেন রানা এক মাসের জন্য মেলাটির অনুমতি নেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে। এতে মেলা চলাকালীন সময় প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এক হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে এক মাসের জন্য সরকারি কোষাগারে ৩০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আজাদ হোসেন রানা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১১টি রাইড থেকে প্রতিদিন ২৫ শতাংশ, স্টল প্রতি আকার বেধে ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলার বাইরের তিনটি স্টল প্রতিটি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্থাপনের জন্য অনুমতি দিয়েছেন আয়োজক কমিটির লোকজন। এছাড়া মোটর সাইকেল পার্কিং এর জন্যও নেওয়া হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
মোঃ জমিস উদ্দিন নামের এক স্টল মালিক জানান, তিনি দেড় লাখ টাকার চুক্তিতে স্টলটি বরাদ্দ নিয়েছেন। আর এই টাকা একবারে দিতে হয়নি। প্রতিদিন বেচা-বিক্রি হওয়ার পর রাতে কোনদিন তিন হাজার আবার কোনদিন চার হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আবার কোনদিন বেচা-বিক্রি কম হওয়ার কারনে টাকা দিতে না পারলে আয়োজক কমিটির লোকজন স্টল চালাতে বাঁধা দেন। পরে বাধ্য হয়ে টাকা পরিশোধ করতে হয়।
কুমিল্লার মারিয়া কুকারিজের মালিক আক্তার হোসেন জানান, প্রতিদিন তার কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নিচ্ছেন আয়োজক কমিটির লোকজন। বিক্রি না হলেও রাত সাড়ে ১০ টার পর তাদের টাকা দিতে হবে। তা না হলে স্টল খোলা রাখতে নিষেধ করে দেন।
লাইভ মিক্স ফ্রুট রোলিং অইসক্রীম স্টলের আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি মাসিক ৮০ হাজার টাকা চুক্তিতে স্টলটি নিয়েছেন। সেই হিসেবে প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আচাঁরের স্টলের এক ব্যবসয়ী জানান, তিনি দুই লাখ টাকা চুক্তিতে দুইটি স্টল নিয়েছেন। আয়োজক কমিটিকে নগদ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা বেচা-বিক্রির পর প্রতিদিন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
আকাশ ভাইয়ের নাটরের বিখ্যাত জিলাপি ঘরের আব্দুল আজিজ জানান, তিনি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মেলার বাইরে স্টল স্থাপনের অনুমতি পেয়েছেন। মোঃ বাচ্চু মিয়া নামের এক দর্শনার্থী জানান, তিনি পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু মেলার নাম করণের সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই। পুরো মেলাই ঘুরে দেখেছেন তিনি। তবে কোন স্টলে গ্রামীন কুটির শিল্পের কোন পন্যই চোঁখে পরেনি। এছাড়া সবগুলো রাইডের টিকিটের মূল্যও অনেক বেশি।
তোফাজ্জল হোসেন নামের আরেক দর্শনার্থী জানান, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন গ্রামীন কুটির শিল্পের কিছু পন্য কেনার জন্য, কিন্তু এখানে এসে দেখেন গ্রামীন কুটির শিল্পের কোন পন্যই নেই এখানে।
গ্রামীন কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আজাদ হোসেন রানা জানান, মাস ব্যাপী এই মেলাটি গত ১৬ মে শুরু হয়েছে। এজন্য প্রতিদিন মেলার জন্য সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এক হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হচ্ছে। মেলায় ৬৫ থেকে ৭০টি স্টল রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, বিনোদনের জন্য মাস ব্যাপী মেলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলো থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে তা তিনি জানেন না। বিষয়েটি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











